সাওমের শারীরিক ও মানসিক উপকারীতা

বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাস রমজান মাস। এ মাস রহমত, বরকত ও মাগফেরাত এর মাস। ধর্মীয় সুফল এর পাশাপাশি এ মাসের রয়েছে শারীরিক এবং মানুষিক সুফল ও। রোজা ফারসি শব্দ যার আরবি অভিধানিক অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। সিয়ামের বাংলা অর্থ হচ্ছে বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম হল আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা। হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা:) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে তার রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরষ্কার দেব। রোজা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢাল স্বরুপ। হাদিসে আরো এসেছে, রাসুল (সা:) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, হুজুর (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বে সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলীম)

রোজার শারীরিক ও মানসিক উপকারীতা :

  1. চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ন্ত্রিত পানাহার এবং ১২/১৮ ঘণ্টা একটানা অভুক্ত থাকলে অর্থাৎ মুসলমানদের ‘রোজা’ রাখার ফলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  2. রোজা হার্টের রোগীর জন্য উপকারী। দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে শরীরে উচ্চ কোলেস্টেরেল (High Cholesterol) মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে।
  3. একটি নির্দিষ্ট দীর্ঘ সময় পানাহার না করায় মাংস-পেশি কোষের (Muscle Cell) জমাকৃত ও অপ্রয়োজনীয় অংশ চর্বি (Fat) স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাস পায়। এ প্রক্রিয়ায় দেহের ওজন (Obesity) কমাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
  4. এ ছাড়া রোজা রাখার ফলে উচ্চ রক্তচাপ ও ব্লাড সুগার হ্রাস পাওয়ায় ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন রোগীদের নিরাময়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
  5. যারা ধুমপান করে তাদের জিহ্বায় ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ হবার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই একমাস রোজার সময় ধুমপায়ীরা ধুমপান কম করে বলে উক্ত আশঙ্কাজনক রোগের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
  6. রোজা রাখার মাধ্যমে পাকস্থলী ও অন্ত্র পূর্ণ বিশ্রাম পায় এবং লুপ্ত শক্তি পুনরুদ্ধারের সময় পায়। পেপটিক আলসার এবং তদজনিত ফুলা রোগ এবং প্রদাহ রোজার কারণে তাড়াতাড়ি উপশম হয়।
  7. রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে দেহ ও মনে নিঃসন্দেহে একধরণের ইতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হয়।
  8. রোজা মস্তিস্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে উজ্জীবিত করে। এতে ধ্যান ধারণা পরিষ্কার ও সহজ হয়। মস্তিষ্কে মুক্ত রক্ত প্রবাহ এবং সূক্ষ্ম অণুকোষগুলোকে জীবাণুমুক্ত ও সবল করে। এর ফলে মস্তিষ্ক অধিক শক্তি অর্জন করতে পারে। জ্ঞানীগণ যথার্থ বলেছেন, ‘ক্ষুধার্ত উদর জ্ঞানের উৎস’।
  9. আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখেছেন যে, রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে নতুন নতুন কোষের জন্ম হয়। ফলে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বেড়ে যায়। অন্যদিকে কোটিসল নামক একধরণের হরমোন রয়েছে য আর্ডনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত হয় তার পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে পুরো রমজান মাসে এবং রমজানেন পরেও মানসিক চাপ বেশ কম থাকে।
  10. ডা. এলেক্স হেগ বলেছেন, ‘রোজায় মানুষের মানসিক শক্তি এবং বিশেষ বিশেষ অনুভূতি গুলো উপকৃত হয়। স্মরণশক্তি বাড়ে, মনোসংযোগ ও যুক্তি শক্তি পরিবর্ধিত হয়। প্রীতি-ভালোবাসা, সহানুভূতি, অতীন্দ্রিয় এবং আধ্যাত্মিক শক্তির উন্মেষ ঘটে। ঘ্রাণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি প্রভৃতি বেড়ে যায়। রোজা শরীরের রক্তের প্রধান পরিশোধক। দেহে রক্তের পরিশোধন এবং বিশুদ্ধির মাধ্যমে দেহ প্রকৃতপক্ষে জীবনীশক্তি লাভ করে।

রমজান মাসের ফজিলত ও উপকারিতা এত অল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না।তাই এ মাসে রোজা রাখার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পাশাপাশি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করা উচিৎ। করোনা মোকাবেলায় সবাই বাসায় অবস্থান করুন সুস্থ থাকুন। আর আমাদের ভিডিও গুলোর নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের চ্যানেলটি subscribe করুন।

 

 

Related Post

Leave a Comment